।।মোঃ আলমগীর হোসেন,লংগদু (রাঙামাটি)।।
রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি জেলার সীমান্তবর্তী লংগদু উপজেলার ১নং আটারকছড়া ইউনিয়নের ৫নংওয়ার্ড উত্তর ইয়ারাংছড়ি। এলাকাটি অত্যান্ত দুর্গম হওয়ায় শিক্ষা,স্বাস্থ্যসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। বিশাল এই জনবহুল এলাকার শিক্ষার কথা চিন্তা করে ২০০০ সনে লংগদু জোনের সহায়তায় স্থাপিত হয় উত্তর ইয়ারাংছড়ির সেনামৈত্রী স্কুল। বর্তমানে একটি সেমিপাকা ভবনেই স্কুলের ক্লাস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
২০০০ সালে স্থাপিত হওয়া এই বিদ্যালয়টি কোন রকম সরকারি অনুদান ছাড়াই অনেক প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা প্রায় বিনা বেতনেই চালিয়ে যাচ্ছেন পাঠদান কর্মসুচি। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় তিনশতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে।
শিক্ষক/কর্মচারী মিলিয়ে রয়েছেন ১০ জন। জেলা পরিষদের দেয়া একটি সেমিপাকা টিনসেট ঘর এবং উন্নয়ন বোর্ড কতৃক একটি একতলাবিশিষ্ট ভবনের মধ্যেই চলছে শ্রেনী কার্যক্রম। বিদ্যালয়টি সম্পর্কে জানতে সরজমিনে গিয়ে অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মোঃ জালাল হোসেন মালেকের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি জানান, “লংগদু উপজেলার থেকে ২৫ কিলোমিটার অভ্যন্তরের রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি সীমান্তে অবস্থিত এই বিদ্যালয়টি। লংগদু জোনের সার্বিক সহযোগিতাই বিদ্যালয়টি পরিচালনার একমাত্র মাধ্যম। অত্র বিদ্যালয়টি সম্পূর্ন বেসরকারী এবং নন এমপিও হওয়ায় বিদ্যালয়টি সরকারি সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা হতে বঞ্চিত। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১০ জন শিক্ষক কর্মচারী প্রায় বিনা বেতনেই শিক্ষাদান করছে।
তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়টি প্রতি বছর বন্যার পানিতে ডুবে যায়। আর এই ডুবে যাওয়ার সময় পাঠদান না হওয়াতে দীর্ঘদিন অসুবিধায় পড়তে হয় শিক্ষার্থী সহ সকলকে।
তাই একটি বহুতল ভবন একান্ত আবশ্যক হয়ে পড়েছে বিদ্যালয়টির জন্য। বিষয়টি নিয়ে অনেবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টগোচরের চেষ্টা করেও তারা ব্যার্থ হয়েছেন। ”
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ জানে অালম জানান, “বিদ্যালয়টি অত্র উপজেলার শিক্ষাক্ষেত্রে মুল্যবান অবদান রাখা সত্বেও সকল ধরনের সরকারি সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে। আমারা সাধ্যমত চেষ্টা করছি বিদ্যালয়টির উন্নয়নের জন্য। পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগীতা নিয়ে কোনমতে চলছে বিদ্যালয়টি। বর্ষার সময় বিদ্যালয়টিতে পানি উঠে যাওয়া যে সমস্যাটা সৃষ্টি হয় তার সমাধানের জন্য এই মুহুর্তে একটি দ্বীতল ভবন নির্মান একান্ত দরকার। বিদ্যালয়টি এমপিও’র জন্য ইতিমধ্যেই আবেদন করা হয়েছে। আর বিদ্যালয়টি এমপিও করা হলে শিক্ষক কর্মচারীদের পক্ষে সাচ্ছন্দ্যের সাথে চাকরি করা সম্ভব হবে। এবং অত্র এলাকার শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত হবে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শুধুমাত্র বর্ষার কারনেই শিক্ষার্থীরা প্রায় তিনমাস ঠিকমত অধ্যয়ন করতে পারেনা। এলাকাবাসীর প্রানের দাবি আগামী বর্ষা মৌসুম আসার আগেই যাতে সরকার বিদ্যালয়টি অন্তপক্ষে একটি দ্বিতল ভবন নির্মান করে অত্র এলাকার কচিকাঁচা শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করেন।
মোঃ আলমগীর হোসেন
১৪জুন-১৯ইং


Comments
Post a Comment
আপনার ভালো কমেন্টের জন্য লেখক কে আরো সুন্দর পোস্ট লিখতে অনুপ্রেরণা যোগাবে।