কেরামান কাতেবীনের পরিচয়

হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, মানুষের সাথে সর্বদা দুজন ফেরেশতা থাকেন।
তাদের মধ্যে একজন মানুষের ডান পাশে অবস্থান করে তার যাবতীয় নেক কাজ
 সাক্ষ্যহীন ভাবে লিপিবদ্ব করতে থাকেন। আর অন্যজন বাম পাশে অবস্থান করে ডান
পাশের ফেরেশতাকে সাক্ষী রেখে বান্দার সকল পাপ কাজ লিপিবদ্ব করতে থাকেন। এ
 দু'ফেরেশতাকেই বলা হয় কেরামান  কাতেবীন।
যখন মানুষ উপবিষ্ট থাকে তখন কেরামান কাতেবীন ফেরেশতাদ্বয় মানুষরে ডান
ও বাম পাশে অবস্থান করে। আর যখন মানুষ যাতায়াত ও চলাফেরা করতে থাকে
 তখন ফেরেশতাদ্বয় সামনে পিছনে অবস্থান করেন; আর যখন মানুষ নিদ্রিত থাকে
তখন তাদের একজন নিদ্রিত ব্যক্তিরমস্তকের কাছে এবং অপরজন পায়ের কাছে
অবস্থান করে তাকে রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকেন।
অন্য হাদীসে আছে, দিবারাত্র ২৪ ঘন্টা মানুষের দেহরক্ষী হিসেবে পাঁচ জন
 ফেরেশতা থাকেন। তন্মধ্যে দু'জন দিবাভাগে, দু'জন রাত্রে আর একজন দিবা-রাত্র সব
 সময় অবস্থান করেন। এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন-
উচ্চারণঃ লাহু মুআক্কিবাতুম মিম্‌ বাইনি ইয়াদাইহি ওয়া মিন খালফিহী্‌ ইয়াহাফাযূনাহু মিন
 আমরিল্লাহি।
অর্থঃ মানুষের অগ্রে এবং পশ্চাতে আল্লাহ তাআলার কতক ফেরেশতা আছে, যারা মানুষকে
 (তাদের ধ্বংসকারী শত্রু, জিন, শয়তান ও মানুষ হতে) আল্লাহ তাআলার নির্দেশে
 রক্ষণাবেক্ষণকরে থাকে।- ( সূরা রা'দ, আয়াত ১১)
নবী করীম (সাঃ) এরশাদ করেন- মানুষ কোন একটি নেক কার্য করতে দৃঢ়
সংকল্প হলেই তার ডান পাশে অবস্থানরত ফেরেশতা নেক কার্যের পরিবর্তে এক বা
একাধিক সওয়াব তার আমলনামায় লিপিবদ্ব করে থাকেন। আর যখন মানুষ
গোনাহের কার্য করে তখন বাম পাশের ফেরেশতা তার আমলনামায় ঐ গোনাহের
 কার্য লেখার জন্য উদ্যত হন। ঐ সময় ডান পাশের ফেরেশতা বাধা দিয়ে বলেন- একটু
 অপেক্ষা করুন। দেখুন এ ব্যাক্তি তওবা করে কিনা। বাম পাশের ফেরেশতা ঐ ব্যাক্তির
 তওবার প্রতীক্ষায় সাত ঘন্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে থাকেন। বান্দা ঐ সময়ের মধ্যে
তওবা করলে তার আমলনামায় আর গোনাহ লেখা হয় না। অন্যথায় একটি গোনাহের
পরিবর্তে মাত্র একটু গোনাহ তার আমলনামায় লেখা হয়ে থাকে।
মানুষ যখন মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং তার লোকজন মৃত দেহ কবরে রেখে
 আসে, তখনই কেরামান কাতেবীন ফেরেশতাদ্বয় আল্লাহ তাআলার সমীপে করজোরে
মিনতি করে বলে- হে রাব্বুল আলামীন! আপনি আমাদেরকে এ ব্যাক্তির পাপ-পূণ্যের
 হিসাব লেখার জন্য নিযুক্ত করেছিলেন, অদ্য তার মৃত্যু হয়েছে, এখন আমরা তার
 কাছে থেকে কি করব? আজ থেকে তার আমল লেখার কাজ শেষ। তাই এখন
 আমাদেরকে আসমানে উঠার আদেশ দিন। রাব্বুল আলামীন উত্তর করবেন- না, এখনও
 তোমাদের কাজ শেষ হয়নি। আসমানে এসে কি করবে? তোমাদেরকে থাকার মত স্থান
আসমানে নেই, আসমান ফেরেশতায় একেবারে পরিপূর্ণ। তারা সর্বদা আমার
 যিকির-আযকার, তসবীহ- তাহলীল মশগুল আছে; বরং তোমরা আমার প্রিয় বান্দার
নিকট অবস্থান কর। যতক্ষণ তাকে হিসাব- নিকাশের জন্য উঠানো না হবে ততক্ষণ
 তোমরা সেথায় অবস্থান করে সর্বদা তসবীহ-তাহলীল ইত্যাদি পড়তে থাক এবং তার
 মাগফেরাত কামনা করতে থাক। কেরামান কাতেবীন রাব্বুল আলামীনের এ নির্দেশে
  কেয়ামাত পর্যন্ত ওই ব্যাক্তির জন্য মাগফেরাত কামনা করতে থাকবেন।
কেরামান কাতেবীন ফেরেশতাদ্বয়কে এজন্য কেরেমান কাতেবীন বলা হয় যে,
 বান্দা যখন উত্তম কাজ করে তখন ঐ ফেরেশতাদ্বয় আল্লাহ তাআলার দরবারে বান্দার
 নেক কার্যের সুসংবাদ নিয়ে সানন্দে উপস্থিত হন এবং বান্দার ভাল কর্মের পক্ষে সাক্ষ্য
 প্রদান করেন। আর যখন বান্দা ভুলে গোনাহের কাজ করে বসে তখন তারা অত্যন্ত
দুঃখিত অনুতপ্ত হয়ে মুখ মলিন করে রাব্বুল আলামীনের দরবারে হাযির হয়। রাব্বুল
আলামীন ফেরেশতাদ্বয়কে জিজ্ঞেস করেন- হে কেরামান কাতেবীন! তোমরা এরূপ
 মলিন মুখ কেন? আমার বান্দা কি কোন গোনাহ করেছে? তখন তারা কোন প্রকার
 উত্তর না করে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে অধঃমুখে দাড়িয়ে থাকেন। এভাবে
 আল্লাহ পাক তাদেরকে দ্বিতীয়বার জিজ্ঞাসা করেন। কিন্তু তারা বিনা উত্তরে মলিন মুখে
দাঁড়িয়ে থাকেন। যখন তৃতীয়বার জিজ্ঞেস করেন- হে ফেরেশতাদ্বয়! তোমাদের কি
 হয়েছে? কেন এরূপ মলিন মুখে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছ্‌? তখন ফেরেশতাদ্বয়! করুণ কণ্ঠে
 উত্তর করেন- হে রাব্বুল আলামীন! আপনার এক নাম সাত্তার- অন্যায় গোপনকারী।
আপনি আপনার বান্দাদেরকে নির্দেশে করেছেন একের অন্যায়- অপরাধ অন্যের নিকট
 গোপন করতে, তাই আমরাও আজ এ বান্দার অন্যায় প্রকাশ করতে শরম বোধ
 করছি। এছাড়াও তারা আমাদের সামনে তোমার পবিত্র বাণী পাঠ করে প্রশংসা করছে
এবং আমাদেরকে কেরামান কাতেবীন বলে সম্বোধন করছে। তাই আমাদের কামনা,
 আপনি এই বান্দার গোনাহ গোপন রাখুন। কেননা, আপনিই একমাত্র বর্তমান ও
 ভবিষ্যতের সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী। আপনি নিজেই এরশাদ করেছেনঃ
উচ্চারণঃ ওয়া ইন্না আলাইকুম লাহাফিযীন, কিরামান্‌ কাতেবীন।
অর্থঃ আমি কেরামান কাতেবীন ফেরেশতাকে তোমাদের তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত
করেছি। (সূরা ইনফিতার, আয়াত ১০-১১)

 সূত্রঃ মৃত্যুর আগে ও হাশরের পরে


দেখুনতো নিচের পোস্ট গুলো পরেছেন  কিনা?



Comments